পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অবহেলিত একটি কাঁচা রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু করেছেন তারা।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে মাহমুদকাঠী-ধলহার সড়কের তিন কিলোমিটার অংশের মধ্যে প্রথম ধাপে এক কিলোমিটার রাস্তার সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়ে রাস্তার দুই পাশ উঁচু করা, মাটি কাটা এবং মাঝখানে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ অবস্থায় এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্যোগ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে এক কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে প্রায় ১ থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এই অর্থ স্থানীয়দের ব্যক্তিগত অনুদান ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রম ব্যয় কমাতে এলাকার মানুষ স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে কাজ করছেন।
স্থানীয় শিক্ষানবিশ অ্যাডভোকেট তানভীর হাওলাদার বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এটিই প্রধান যোগাযোগের পথ। অথচ গত প্রায় ২০ বছরেও রাস্তাটির কোনো সংস্কার হয়নি। বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদার কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পেয়ারার বাগানের জন্য পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত। পেয়ারার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই এলাকার মানুষ নিজেদের উদ্যোগেই রাস্তা সংস্কারের কাজে নেমেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যায়ক্রমে সড়কের বাকি অংশও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পুরো সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করার দাবি জানান, যাতে বছরের সব সময় নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করা যায়।