সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে যুব সমাজ পরিচালিত গুচ্ছগ্রাম বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাঙালির ঐতিহ্য ও বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আনন্দঘন ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. করিম মাহমুদ লিমনের সভাপতিত্বে এবং কাওসার আহমদ ও সাইদুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকারিয়া হোসেন, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক, গোয়াইনঘাট উপজেলা লেডিস ক্লাবের সভানেত্রী দিপ্তী রানী বৈষ্ণব, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান এবং মুসলিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, জাফলংয়ের প্রত্যন্ত এলাকায় যুব সমাজের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অসহায়, হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়টি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফল উৎসবের মাধ্যমে শিশুরা যেমন বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারবে, তেমনি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হবে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় বিদ্যালয়ের পাশে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. করিম মাহমুদ লিমন বলেন, অবহেলিত ও শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার মূল ধারায় যুক্ত করাই বিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য। সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার ব্যয় বহন করা হচ্ছে। শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতেই এ আয়োজন।
উৎসবে আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, লটকন, ড্রাগন, আপেল, মাল্টা ও কলাসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ফল একসঙ্গে দেখে ও খেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং যুব সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।