রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ঢলে ইউনিয়নের প্রায় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। দুর্গমতা, প্রবল স্রোত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত সরকারি ত্রাণও পৌঁছাতে পারেনি দুর্গত মানুষের কাছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার পানি কিছুটা কমলেও শুক্রবার রাতভর বৃষ্টির পর আবারও উজানের ঢলে উলুছড়ি গ্রামের বাজারসহ বহু বসতঘর পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, গ্রামের অনেক মানুষ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় ত্রাণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
বিলাইছড়ির বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। কয়েকটি বাজার ডুবে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন জানান, বিলাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে শুধু ফারুয়া ইউনিয়নেই প্রায় ১২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। প্রবল স্রোতের কারণে সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না। আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং স্থানীয় বাজার থেকে খাদ্য কিনে দুর্গতদের সহায়তার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ভোর রাত থেকে টানা বর্ষণে ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। চাইন্দাপাড়া, আলিখিংপাড়া, উলুছড়ি, তক্তানালা উত্তর ও দক্ষিণ, ওরাছড়ি পূর্ব ও পশ্চিম, লত্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, গোয়াইনছড়ি, ফারুয়া বাজার, তারাছড়ি ও যমুনাছড়িসহ বহু পাড়া-মহল্লা এখন বন্যার পানির নিচে রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো না গেলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।