হবিগঞ্জ শহরতলীর ভাদৈ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁধের ঝুঁকি বাড়ায় শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ।
এ সময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, ভাদৈ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে এলাকাবাসীর জানমাল রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাদৈ এলাকার এ বাঁধে গত কয়েক বছর ধরেই ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। একাধিকবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের।
তাদের অভিযোগ, খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এতে তীররক্ষা বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এবার টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে সেই দুর্বলতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়ক।
স্থানীয়দের দাবি, আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে তা ভেঙে যায়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জেলার কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাউবো জানিয়েছে, সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার রাঘপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীরেও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই হবে না; খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।