গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ডে পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। বন্যা বেড়ে ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ, স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থ্যা। একই সঙ্গে বেড়েছে ভূমি ও পাহাড়ধ্বস।
বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর আগে একই কারণে এই অঞ্চলের গত ৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করেছে বোর্ড।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীসহ এই বিভাগে টিনশেড কিংবা একতলা ভবনের অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসবের কোথাও হাটুপানি, আবার কোথাও ভারী বাতাসে প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে পানিতে ভাসছে।
বহুতল ভবনের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাবহার করা হয়েছে আশ্রয়ণ কেন্দ্র হিসেবে। অনেক এলাকায় ব্রীজ কালভার্ট ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জেলাই কম-বেশি পানির নিচে ডুবে আছে। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে চলছে অভিন্ন প্রশ্নত্রে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।
গত ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এবার সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের সকল কেন্দ্রে পরীক্ষা স্থগিত করে পরবর্তীতে নেওয়ার সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ভোরের ডাককে বলেন, এইচএসসি ও সমমানের নিধারিত সকল পরীক্ষা শেষ হলে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে।
যেহেতু সকল বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র, কোন প্রক্রিয়ায় তাদের পরীক্ষা গ্রহন করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পান্ডুলিপিতে একাধিক সেট প্রশ্নপত্র আছে, সেখান থেকে যেকোনো এক সেট দিয়ে এই বের্ডের পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে এ নিয়ে আরও কয়েকদিন পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামনের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পরীক্ষা স্থগিতের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আগামী শনিবারের (১১ জুলাই) ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।
অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার উক্ত তারিখের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলেও এতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
এর আগে গত বুধবার এক নির্দেশনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ ও চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে আবশ্যিকভাবে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রাখতে হবে।
ইতিমধ্যে যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পুরো সময়জুড়েই শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কোনো অবস্থাতেই অতিউৎসাহী হয়ে জলমগ্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রাখা যাবে না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, যেসব বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা ও যাতায়াতের সমস্যা নেই সেসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু থাকবে।
তার আগে গত মঙ্গলবার দেশের পাঁচ বিভাগের অন্তত ১৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পূর্বাভাস দেখা দিলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, দুর্যোগ ও বন্যা পরিস্থিতির জন্য সব ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিব, স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
তিনি জানান, পরীক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের নিকটবর্তীস্থানে নিয়ে আসার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তবে কোনো জেলায় বন্যা হলে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।