বিচ্ছেদের পর অনেক সম্পর্কই দূরত্বে হারিয়ে যায়, কিন্তু সোহেল খান ও সীমা সাজদেহর গল্প যেন ভিন্ন। দীর্ঘ চার বছর পর এক রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে প্রাক্তন স্ত্রীকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালমান খানের ছোট ভাই। সেই মুহূর্তে দুজনের আন্তরিক আচরণ ও পারস্পরিক সম্মান আবারও প্রমাণ করেছে, সম্পর্কের ইতি টানলেও বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার বন্ধন অটুট থাকতে পারে।
দীর্ঘ ২৪ বছরের চেনা ছক ভেঙে ২০২২ সালে আইনি বিচ্ছেদ হয়েছিল অভিনেতা সোহেল খান ও ফ্যাশন ডিজাইনার সীমা সাজদেহর। কেটে গেছে চার বছর। তবে তিক্ততা নয়, তাদের সম্পর্কের সমীকরণে এখনও রয়ে গেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর নিখাদ বন্ধুত্ব।
ক্যামেরার সামনেই সংসার ভাঙার সব দায় নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এই অভিনেতা-প্রযোজক। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, একটি রিয়্যালিটি শো-এর ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ প্রতিযোগী হিসেবে আকস্মিক প্রবেশ ঘটে সীমার। প্রাক্তন স্ত্রীকে এভাবে শো-তে দেখে কিছুটা বিস্মিত হলেও, সোহেলের ঠোঁটে ফুটে ওঠে হাসি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কুণাল খেমু যখন সীমাকে দেখে সোহেলের প্রতিক্রিয়া জানতে চান, তখন বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। প্রকাশ্যেই মন খুলে প্রশংসা করেন প্রাক্তন স্ত্রীর। সোহেল বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এই সুন্দরী নারীর সঙ্গে আমি ২৪ বছর কাটিয়েছি। আর সকলের সামনে আমি স্বীকার করতে চাই, আমাদের সম্পর্কের মধ্যে যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, সব দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছি।’
সোহেলের মুখে এমন সততা আর উদার স্বীকারোক্তি শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি সীমা। উপস্থিত অন্য প্রতিযোগীরাও করতালি দিয়ে সোহেলের এই মানসিকতাকে সাধুবাদ জানান। অভিনেতা কুশল ট্যান্ডন তো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেই ওঠেন, ‘এটার জন্য একটা সিটি তো বাজাতেই পারি।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন সোহেল ও সীমা। দীর্ঘ ২৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোল আলো করে আসে দুই পুত্রসন্তান। ২০২২ সালে দীর্ঘ সংসারের ইতি টেনে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তারা। তবে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও লালন-পালনের প্রশ্নে তারা সবসময়ই এক। দুই ছেলেকে যৌথভাবেই বড় করছেন এই প্রাক্তন জুটি, আর বজায় রেখেছেন চমৎকার এক বন্ধুত্বের বন্ধন।