পানি নামলেও বিচ্ছিন্ন খাগড়াছড়ি

অনলাইন ডেস্ক

সারাদেশ

টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও খাগড়াছড়িতে এখনো স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে থাকায়

2026-07-10T15:27:11+00:00
2026-07-10T15:27:11+00:00
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
পানি নামলেও বিচ্ছিন্ন খাগড়াছড়ি
অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম 
ফাইল ছবি
টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও খাগড়াছড়িতে এখনো স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে থাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বহু গ্রাম এখনো প্লাবিত থাকায় হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

তবে স্বস্তির খবর হলো, দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকা থেকে পানি সরে যাওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বাঘাইহাট–মাচালং–সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এতে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে ফিরে যেতে পেরেছেন।

অন্যদিকে দীঘিনালা–লংগদু এবং খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কে এখনো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মহালছড়ি উপজেলার একটি সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মুবাছড়ি এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি কমতে শুরু করায় কবাখালী সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। মাইনী নদীর পানিও কমছে। তবে নিম্নাঞ্চল হওয়ায় মেরুং ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলায় খোলা ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত হাজারের বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। সড়কও বন্ধ। খুব কষ্টে আছি। কবে পানি নামবে, সেটাও বলতে পারছি না।

এদিকে চেঙ্গী নদীর পানি কমতে শুরু করায় খাগড়াছড়ি শহরের বটতলী, মহিলা কলেজ এলাকা, টিটিসি, রাজ্যমণিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে নিচের বাজার ও গঞ্জপাড়া এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। পানি কমতে শুরু করায় অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে দীঘিনালা–লংগদু সড়কের স্টিল ব্রিজ, ছোট মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকা এবং খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও লিমুছড়ি অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে এসব সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। ইতোমধ্যে মহালছড়ি–গুইমারা সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং খাগড়াছড়ি শহরের শালবন, কুমিল্লাটিলা ও হরিনাথপাড়া গ্যাপ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো বাড়ি ছাড়েননি।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষ এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য খিচুড়ি, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: