বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে মাত্র ১৯ শয্যার ভবনে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো ও জনবল সংকট থাকলেও চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে হাসপাতালের ওষুধ সংকট নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তা নাকচ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি।
সম্প্রতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হাসপাতালের ওষুধ সংকটের কোনো বাস্তবতা নেই। একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, রোগীদের জন্য সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ওষুধ নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক (এনসিডি) রোগীদের জন্যও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে জানানো হয়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮০-এর দশকে ৩১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। পরে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে ১৯ শয্যার পুরোনো ভবনেই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৫১ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। তাদের মধ্যে সাতজন ডেপুটেশনে এবং একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মাত্র ছয়জন চিকিৎসক। এছাড়া নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, সিনিয়র মেডিকেল অফিসার (এসএমও) ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বহু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। অন্তর্বিভাগে নিয়মিত ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ৫২ ধরনের ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং ১০ ধরনের সিরাপ সরবরাহ করা হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ সিফাত খান জানান, ২০২৫ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত নিবন্ধিত এক হাজার ৬৩৭ জন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীকে প্রতি মাসে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে আরও ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন রোগী এ সেবার আওতায় নিবন্ধিত হচ্ছেন।
ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এক্স-রে মেশিন চালু, প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম সচলসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেবার মান আরও বাড়াতে এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।