চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশল বিএনপির

সোহাগ রাসিফ

রাজনীতি

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর ক্ষমতায় এসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। এবছরের অক্টেবরের দিকে দলীয় প্রতীক

2026-07-10T15:08:22+00:00
2026-07-10T15:08:22+00:00
  শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশল বিএনপির
সোহাগ রাসিফ
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর ক্ষমতায় এসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। এবছরের অক্টেবরের দিকে দলীয় প্রতীক বিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির জনভিত্তি প্রমাণের বড় সুযোগ এই নির্বাচন। 

তবে এবারের নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিত করা এখন দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে কিংবা দলের মধ্যে কোন্দল বাড়ালে সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি করবে বিএনপি। 

একক প্রার্থী বাছাইয়ে নানামূখী চ্যালেঞ্জ: দেশের ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫ উপজেলার প্রতিটিতে নূন্যতম ৩ থেকে ৮ জন এবং ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদেও অসংখ্য নেতা প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। প্রার্থীরা মূলত স্থানীয় সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী নেতাদের আলাদা আলাদা বলয়ে বিভক্ত। 

এই গ্রুপিং নিরসন করে সবাইকে একজনের পক্ষে একতাবদ্ধ করা বিএনপির হাই কমান্ডের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় লবিং-তদবির ও মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জেরে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকবিহীন হচ্ছে। এতে দলের তৃণমূল পর্যায়ের চেইন অব কমান্ড রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

কারণ, ভোটে কোনো প্রতীক না থাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে কাউকে চূড়ান্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে একই পদে দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার এবং দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনের সহায়তায় তারা কাউকে জিতিয়ে আনবেন না। প্রার্থীদের সম্পূর্ণভাবে নিজেদের জনপ্রিয়তা এবং জনগণের আস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য প্রশাসনিক আনুকূল্য ছাড়া জয় নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 

গত ৯ই মে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার বার্তা দিয়েছেন এবং প্রার্থীদের এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জনের তাগিদ দেন।

আশানুরুপ ফলাফলে রয়েছে শঙ্কা: বিএনপির জন্য মাঠের লড়াই একদমই সহজ হবে না। সরকারের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং নবীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে ভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছে। 

অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকতে পারেন বিএনপির বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে। 

এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে একদিকে যেমন ভোটব্যাংকের ভাগাভাগি হবে, অন্যদিকে চাপে পরবে বিএনপির তৃণমূল। 

বিএনপি নিজেদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে না পারলে ভোটের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

বিএনপির কৌশলী অবস্থান:  একক প্রার্থী বাছাইয়ে উভয়মুখী সংকট মোকাবিলায় বিএনপি কিছু কঠোর ও কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিতর্ক এড়াতে তারা প্রার্থী বাছাইয়ের তিনটি মানদণ্ড ঠিক করেছে। 

এলাকায় জনপ্রিয়তা, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ত্যাগের ভূমিকা। বিশেষ করে ‘ক্লিন ইমেজ’ এবং জনবান্ধব নেতাদেরই গুডবুকে রাখা হচ্ছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার গ্রুপিং চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া বড় শহরগুলোর মেয়র পদে কেন্দ্রীয়ভাবে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় মতামতের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, প্রায় দেড় দশক আমাদের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, অবহেলিত ছিলেন। এখন তাদের সরকার ক্ষমতায়। স্থানীয় নির্বাচনে এরা অনেকেই প্রার্থী হবেন, স্বাভাবিক ব্যাপার। 

তবে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করলে সবাই এক হয়ে যাবে, মতপার্থক্য কমে আসবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তাকেই সবাই মেনে নেবে। দলের নিয়ম, শৃঙ্খলা ও আইন যদি কেউ অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্ভাব্য রোডম্যাপ: নির্বাচনের রোডম্যাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রাথমিক রোডম্যাপ পরিচালনা প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। 

তিনি জানান, চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে এবং আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টেবরে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে ২০২৭ সালের অক্টোবর নাগাদ শেষ হতে পারে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে রয়েছে জোর আলোচনা। যেখানে আব্দুস সালাম, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ইশরাক হোসেন এবং তাবিথ আউয়ালের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্য থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ভাবছে বিএনপি। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, এবারের স্থানীয় নির্বাচন বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার বড় পরীক্ষা। তৃণমূলের হাজার হাজার প্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে শেষ পর্যন্ত তারা কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল। দলীয় কোন্দলে ফলাফল বিপরীতে গেলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পরবে দলটি।


  বিষয়:   বিএনপি  নির্বাচন  চ্যালেঞ্জ  স্থানীয় সরকার নির্বাচন 


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: