নওগাঁয় টানা ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় জেলার রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান দুই কৃষক। একই সঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) এবং মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়া এলাকার ইসমাইল সরদার (৫০)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডল জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নিজ জমিতে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, ইসমাইল সরদার নিজ জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে নওগাঁ শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো পথচারী। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
বদলগাছি কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নওগাঁয় ২৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ। তিনি জানান, আগামী আরও দুই-এক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জেলার ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পানিও নতুন করে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।