সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে বজ্রাঘাতে রিয়াদ (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
নিহত রিয়াদ বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরতে যায় রিয়াদ। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয় সে। স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
রিয়াদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। পরিবারের আহাজারিতে পুরো গ্রামে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, শান্ত-স্বভাব, ভদ্র ও মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিল রিয়াদ। নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের বিভিন্ন কাজেও সহযোগিতা করত সে। তার অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, বজ্রপাতে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় কিংবা গাছের নিচে অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা উচিত। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের এ বিষয়ে সচেতন করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রঝড়ের সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং খোলা জায়গা ও জলাশয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।