সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত এক জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোনের কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন জানান, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বনদস্যু চক্রগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ওই তিন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সময় তারা দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি জমা দেন। একই সঙ্গে তাদের কবল থেকে এক জিম্মি জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন বাগেরহাটের মোংলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ১০ রাউন্ড গোলা এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং তাদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সাত সদস্যও অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন, জব্দ করা অস্ত্রের আইনগত প্রক্রিয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনে সক্রিয় অন্যান্য দস্যুদেরও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।