একটানা অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
টানা বর্ষণে আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কাতালগঞ্জ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর, দুই নম্বর গেটসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। ইশান মহাজন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পতেঙ্গার সিবিচ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও ফেনীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের কিছু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করছে। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছয়টি কিন্ডারগার্টেনসহ নগরের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরে সুবিধাজনক সময়ে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে।
একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ফুলকি সহজ পাঠ বিদ্যালয়। তবে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সকালের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অভিভাবকদের আপত্তির মুখে দুপুরের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় সকালের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তবে বিকেলের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, এটি পাবলিক পরীক্ষা নয়। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিত করার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।