গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার কিশোর গাড়ি ইউনিয়নে নিজ সন্তানদের বিরুদ্ধে ভরণপোষণ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বৃদ্ধ দম্পতির।
এই ঘটনায় রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বৃদ্ধ দম্পতি।
সরেজমিনে ঘটনার বিবরনে জানা যায়, বড় শিমুলতলা গ্রামের ওসমান আলী এবং খাইরুন নেছা (বৃদ্ধ দম্পতি) কে ভরণপোষণ না দিয়ে বিভিন্ন সময় খারাপ আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে নিজ তিন ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ছয় মাস আগে বড় শিমুলতলা ও পশ্চিম মির্জাপুর মৌজায় ওসমান আলীর নামে প্রায় ৮০ শতাংশ জমি বুদ্ধ দম্পতিকে সারাজীবন সমানভাবে ভরন পোষন দেবে মর্মে ঘরোয়া ছামমতে তিন ছেলে সমান ভাগে ভাগ করে নেয়। ভাগ করার পর ০৬ (ছয়) মাস যা নিয়মে সকল পুত্র সাত দিন করিয়া ভরনপোষন দেয়। সম্প্রতি হঠাৎ করেই সকল ছেলে ও ছেলের বৌ ভাত কাপর দেখাশুনা বন্ধ করে দেয় এবং থাকার ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় ওসমান আলী সাংবাদিকদের জানায়, আমি উপায় না পেয়ে নিজের জমি নিজেই ফসল ফলানোর জন্য ধানের বীজ ফেলতে ও নিজের জমিতে পালিত গাছ বিক্রি করতে গেলে আমার তিন সন্তান আবুল খায়ের, আবু তাহের, আব্দুল কুদ্দুস ও নাতি সেলিম মিয়াআমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়, সেই সাথে বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এমনকি হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। আমি বর্তমানে বয়সের ভারে একমাত্র স্ত্রীকে নিয়ে রোগে শোকে জর্জরতি হয়ে জামিজমা থাকা সত্ত্বেও খেয়ে না খেয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন যাপন করতেছি।
বৃদ্ধা খাইরুন নেছা জানায়,বাড়ির পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী কাহারো বাড়ীতে গেলে বা আমাদের একমাত্র মেয়ের বাড়ীতে গেলে তাহাদেরকে গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকী প্রদান করে আমার তিন ছেলে ও এক নাতি। বিগত ০২টি ঈদে ভালো কোন পোষাক বা ভালো কোন খাবার পর্যন্ত দেয়নি বরং আমরা অন্য কারো সাহায্য সহোযোগিতা নিলে আমার সকল ছেলে ছেলের বৌ সন্তান সবাই দীর্ঘদিন যাবৎ অমানবিক ব্যবহার করে আসছেন।
নাম বলতে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানায় , অত্র বিষয়টি নিয়ে গ্রাম পর্যায়ে কয়েকবার শালিশ এবং গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে আলোচনা করেও কোন সুরাহা হয়নি কেবল তিন ছেলের অসদাচরণের কারনে।
এমতাবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতি বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিচার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছেন।