ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় আজ মুখোমুখি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশর। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে মোহামেদ সালাহকে সামনে রেখে নিজেদের নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে মিশর।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে আজ রাত ১০টায় ম্যাচটি শুরু হবে। প্রায় ৭১ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার আধুনিক এই স্টেডিয়াম বিশ্বমানের অবকাঠামো, রিট্র্যাকটেবল ছাদ এবং অত্যাধুনিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় (রাউন্ড অব ১৬) হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসি বনাম মোহাম্মদ সালাহর দ্বৈরথ। ইতিহাস ও শক্তিমত্তার বিচারে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বে মিশর যে কোনো সময় চমক দেখাতে সক্ষম এমন প্রত্যাশাও রয়েছে। ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও মিশরের জাতীয় দল এখন পর্যন্ত মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে। সেটি ছিল ২০০৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। মিশরকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় লিওনেল স্কালোনির দল। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি প্রথম গোল করেন এবং দলকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে দেন। অন্যদিকে রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় মিশর। পেনাল্টি শুটআউটে সাফল্যেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আফ্রিকান দলটি।
আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা জাদুকর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়তে প্রস্তুত মোহামেদ সালাহর মিশর। বৈশ্বিক ফুটবলে এই দুই তারকার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। আর তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের এই মুখোমুখি লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন কোটি কোটি দর্শক।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনাই স্পষ্ট ফেভারিট বা জয়ের দিক থেকে এগিয়ে থাকবে। তবে ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলা, তা গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষেই টের পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা মিশরও ছেড়ে কথা বলবে না। সালাহর নেতৃত্বাধীন দলটি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করে বড় কোনো চমক দেখাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফুটবলের এই মহা-উত্তেজনাকর ম্যাচটি উপভোগ করার জন্য। টেলিভিশন পর্দা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই এখন মেসি-সালাহ দ্বৈরথ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও উত্তেজনা। নকআউটের এই মরণপণ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার মুখে শেষ হাসি ফুটবে, কেপ ভার্দে ম্যাচের মতো আর্জেন্টিনা কি তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে, নাকি সালাহর মিশর নতুন কোনো রূপকথা লিখবে তা দেখার জন্য ফুটবল অনুরাগীদের অপেক্ষা করতে হবে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দেকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, মিশরের যাত্রা বেশ লড়াকু। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়ে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দলের ভারসাম্য ধরে রেখেছেন। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আস্থার প্রতীক।
মিশরের ভরসা মোহামেদ সালাহ। সালাহর সঙ্গে ওমর মারমুশ আক্রমণে দারুণ গতি যোগ করছেন। মাঝমাঠে ত্রেজেগে ও মারওয়ান আতিয়া দলের ছন্দ বজায় রাখছেন। রক্ষণে মোহামেদ আবদেলমোনেম এবং গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি মিশরের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন। আধুনিক ফুটবলের এই দুই মহাতারকার লড়াই ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় মুখোমুখি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশর। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে মোহামেদ সালাহকে সামনে রেখে আফ্রিকার নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা সব সময়ই অন্যতম পরাশক্তি। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেরা ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে মিশর বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী না হলেও আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল। এবার তারা নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর। অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেছেন, মিশরকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সালাহ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমাদের ধৈর্য ধরে নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। আমরা জানি সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
মিশর শিবিরেও আত্মবিশ্বাস কম নয়। কোচ হোসাম হাসানের মতে, আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কিন্তু ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব। আমরা ভয় নিয়ে মাঠে নামছি না। নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।
অধিনায়ক সালাহ বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে সম্মান করি, আমরা নিজেদের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামব। আফ্রিকার ফুটবলের জন্য নতুন ইতিহাস গড়তে চাই।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে মেসি বনাম সালাহ। আধুনিক ফুটবলের দুই মহাতারকা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একে অপরের বিপক্ষে নামছেন।
একজন বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও একটি শিরোপার পথে এগোতে চান, অন্যজন নিজের দেশকে প্রথমবারের মতো আরও দূরে নিয়ে যেতে চান। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই দুই মহাদেশের ফুটবল সংঘর্ষ। একদিকে লাতিন আমেরিকার শিল্প, অন্যদিকে আফ্রিকার অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা।
শেষ বাঁশি বাজার পর কে উদযাপন করবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট? বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, নাকি সালাহর নেতৃত্বে নতুন ইতিহাস গড়া মিশর? সেই উত্তর মিলবে আটলান্টার আলোঝলমলে রাতে।