সুন্দরবন সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা খুলনার কয়রা উপজেলায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কাম গ্রামীণ সড়কটি সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং কয়রা গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধটি (যা গ্রামীণ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়) নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়েছিল। ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র আঘাতে বাঁধটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের চেষ্টায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধটি সামাল দেওয়া হয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কটি মেরামত করে। এরপর ২০১৩ সালের দিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ৫০০ মিটার এলাকায় আরসিসি ব্লক বসানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। তবে ব্লক বসানোর পর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধের ভেতরের অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বাঁধের দুটি স্থান দিয়ে ‘ঘোগ’ (ভেতরের গর্ত) তৈরি হয়ে জোয়ারের সময় নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো আরসিসি ব্লকের টেম্পারিং নষ্ট হয়ে রাস্তাটি এখন পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৪নং লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশের আরসিসি ব্লক অংশ থেকে স্লুইসগেট অভিমুখী প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বাঁধের ভেতরের অংশে মাটি না থাকায় এবং ব্লকের আস্তরণ উঠে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীরা জানান, রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ এখানে কোনো কাজ করতে চায় না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হলে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং রোগীদের যাতায়াত সহজ হতো। আরেক বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ব্লকের আবরণ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গোলাম সরদারের বাড়ি থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত অংশটি যদি দ্রুত মাটি দিয়ে সংস্কার করা না হয়, তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় জোয়ারের চাপে পুরো এলাকা আবার প্লাবিত হতে পারে। এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, দুর্যোগের সময় এটি নদী রক্ষা বাঁধ এবং স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়রা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ হওয়ায় আইনি জটিলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এটি মেরামত করা সম্ভব হয় না। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আগামী বাজেটে ৪নং কয়রা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে স্লুইসগেট অভিমুখী ওই ক্ষতিগ্রস্ত আরসিসি ব্লকের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। আশা করছি দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।