অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদকে ৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়। তবে এ খাদ্যশস্য বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নামেও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া ভুয়া প্রকল্প ও ভুয়া উপকারভোগীর নাম ব্যবহার করে খাদ্যশস্য আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানেনই না যে তাদের নামে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ হয়েছে। কিছু প্রকল্পে ২০ টন পর্যন্ত চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও প্রকৃত উপকারভোগীরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া কয়েকটি প্রকল্পে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক মূল্য দেখানো হলেও বাস্তবে উপকারভোগীদের হাতে মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ৪ লাখ টাকার সমপরিমাণ সুবিধা দেখিয়ে অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় বড় প্রকল্পের বরাদ্দ চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
এ বিষয়ে সাবেক পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা মুঠোফোনে বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। আপনারা যেহেতু বিষয়টি দেখছেন, সেক্ষেত্রে আপনারাই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালীকা ত্রিপুরা বলেন, খাদ্যশস্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বণ্টন করা হয়েছে। কোন সদস্য কোথায় কীভাবে বিতরণ করেছেন, সে বিষয়ে তারাই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্পের তালিকা, উপকারভোগীদের নাম, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্যশস্য বিতরণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তারা বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
(চলবে...)