রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও চারজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট সাতজনকে আটক করা হলো।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, ডিবির তেজগাঁও বিভাগের একটি দল বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) ও মো. মিজানুর রহমানকে (৪০) আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানায়, গত ১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড়ে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার (৪৫) ও সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশারের মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে ডিবি প্রধান বলেন, গত ২৯ জুন বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে ১ জুলাই রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক চলাকালে আবারও সংঘর্ষ বাধে। ওই সংঘর্ষেই আবুল বাশার ও সাদ্দামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন সরাসরি আবুল বাশারকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা ময়মনসিংহে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে শোয়েব, আরমান ও নয়ন নামে তিনজনকে আটক করে আদাবর থানা পুলিশ। সব মিলিয়ে এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে।