মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে চলমান জিও ব্যাগের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বেড়িবাঁধের একেবারে পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়েই জিও ব্যাগ ভরে সংস্কারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে মাতারবাড়ীর পশ্চিম জালিয়াপাড়া সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভারী যন্ত্রের সাহায্যে বাঁধঘেঁষা স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ফেলা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে বাঁধের পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের সময় সমুদ্রের প্রবল চাপ সরাসরি এই বেড়িবাঁধের ওপর পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বাঁধের পাশ থেকেই বালু বা মাটি সরিয়ে নেওয়া হলে এর ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হলেও তা দীর্ঘদিন টেকসই হবে না। বড় জোয়ার বা বৈরী আবহাওয়ায় বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, অতীতেও একইভাবে বাঁধের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগের মাধ্যমে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই অনেক স্থানে জিও ব্যাগ সরে গিয়ে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত সেই সংস্কারকাজ দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। এবারও একই পদ্ধতিতে কাজ হওয়ায় সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, মাতারবাড়ী উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা, বসতভিটা, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা এই বেড়িবাঁধের ওপর নির্ভরশীল। তাই সংস্কারকাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকার প্রতিবছর বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তারা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে বেড়িবাঁধের পাশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ এবং সংস্কারকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।