শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল থেকেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান ফটক থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত ছিল শিল্পীদের সরব উপস্থিতি, প্রার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সমর্থকদের ব্যস্ততা। সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর একে একে ভোট দিতে আসেন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারা। সংবাদকর্মীদের ভিড়, ক্যামেরার ঝলকানি এবং শিল্পীদের মিলনমেলায় নির্বাচনী উত্তাপের পাশাপাশি পুরো এফডিসি যেন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবের আসরে।
তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল অভিনেতা শম্ভু সরকার সঞ্জয়ের ব্যতিক্রমী আগমন। ব্যান্ড পার্টি ও পালকির শোভাযাত্রা নিয়ে ভোট দিতে এসে তিনি মুহূর্তেই সবার নজর কাড়েন। সোনালি পোশাক, কাঁধে শাল ও হাতে লাঠি নিয়ে ভোটকেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ভিড় করেন শিল্পী, দর্শনার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
ভোট দেওয়ার পর শম্ভু সরকার সঞ্জয় বলেন, শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই উৎসব। তাই প্রতিবারই ভিন্নভাবে ভোট দিতে আসার চেষ্টা করি। কখনো ঘোড়ায় চড়ে, কখনো সৈন্য নিয়ে এসেছি। এবার এসেছি পালকি নিয়ে।
এদিকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভোট দিতে এফডিসিতে আসেন অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। তিনি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করে বলেন, নির্বাচন শেষে আমরা সবাই এক। কোনো বিভেদ যেন না থাকে।
ভোটকেন্দ্রে আসা সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করেন বিভিন্ন পদের প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। প্রধান ফটকে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী শিপন মিত্র ও চিত্রনায়িকা জলিকে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এক প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মকবুল হোসেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্য প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন জয় চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন পদে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মেয়াদের সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার কোনো পদেই প্রার্থী হননি। ফলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শিল্পী সমিতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।