কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুধকুমার নদের পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা উজানের ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে তারা উঁচু স্থান ও ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছেন।
এদিকে, দুধকুমারের পানি বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করায় জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙা ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ফান্দেরচর এলাকার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব পরিবারের বসতভিটার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে চারপাশে পানি থাকায় চলাচল ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবারগুলো।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের নামা কাচিচর এলাকার বাসিন্দা শাহিদা বেগম জানান, হঠাৎ করেই বন্যার পানি বাড়িতে ঢুকে পড়ায় এখনো রান্না করতে পারেননি। ঘরের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঘরের ভেতরে পানি থাকায় ছোট ছোট সন্তানদের খাটের ওপর বসিয়ে রাখতে হয়েছে। এখনো তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
একই এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, বাড়ির চারপাশ তো বটেই, ঘরের ভেতরেও পানি উঠে গেছে। গরু-ছাগল নিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন বলে জানান তিনি।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য কাঁচা সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা এখনো পর্যাপ্ত নয়। দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও আগামী আরও তিন দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।