যশোরের শার্শায় জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণকারী এক সহকারী শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর দুই শিক্ষক ও এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহিন বালুজ।
মামলার আসামিরা হলেন—সহকারী শিক্ষক ইদ্রীস আলী (ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে), সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষিকা (কৃষি) সালেহা খাতুন এবং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শার্শা উপজেলার চালতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালে কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর সহযোগিতায় জাল সনদের মাধ্যমে তিনজনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ওই তিন শিক্ষকের জাল সনদের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ জানান। পরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করতে প্রাণনাশ ও মারধরের হুমকি দেন।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে যশোর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সিআইডির যশোরের এসআই বখতিয়ার রহমান তিন শিক্ষকের সনদ জাল এবং সাবেক চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত আগে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মামলার ধার্য তারিখে সহকারী শিক্ষক ইদ্রীস আলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।