মৌলভীবাজারের রাজনগরে টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল এবং ভারত থেকে নেমে আসা পানির চাপে মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে প্রশাসন।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় উজানের বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের উজিরপুর ও ভাঙ্গারহাট এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে টেংরা, কামারচাক, মনসুরনগর ও রাজনগর ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তারা পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বাঁধের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী ওরফে আশই মিয়া (৬৫) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার সকালে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাদুর্গতদের জন্য ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে ২০ টন চাল, নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২১০ বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার তাৎক্ষণিকভাবে ৯০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব ড. একেএম শাহাব উদ্দীন এবং মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপেই বাঁধের দুর্বল অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।