টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। সড়ক-অলিগলি ডুবে যাওয়ায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অকার্যকর স্লুইসগেট ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই বৃষ্টিতেই নগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা, রয়্যাল মোড়, শিববাড়ি, টুটপাড়া, মুজগুন্নিসহ অধিকাংশ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। নতুন রাস্তা মোড় থেকে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, উল্লাস পার্ক, খানজাহান আলী সড়ক, লবণচরা, চানমারী, রূপসা নতুন বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাসিন্দারা। ঝড়ো হাওয়ার কারণে শহরতলীর কয়েকটি কাঁচা ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন ও খাল সংস্কার করা হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। অনেক স্থানে ড্রেনের তলদেশ বসতবাড়ির চেয়ে উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার বদলে উল্টো নোংরা পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে। এছাড়া রূপসার পাম্প হাউস বন্ধ থাকা, স্লুইসগেটের অকার্যকারিতা এবং জোয়ারের সময় নদীর পানি শহরে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে প্রায় ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার নালা রয়েছে। তবে অধিকাংশ নালায় জমে থাকা বর্জ্য ও পলিথিন নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নগরের বহু প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতাও কমে গেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, পরিকল্পনাহীন খাল খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ময়ূর নদকে রূপসা নদীর সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ শেষ হলেও পাম্প স্টেশন ও স্লুইসগেট সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো বাকি। এসব কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পের সুফল মিলবে।
অন্যদিকে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সময় লাগবে এবং চলমান সংস্কারকাজ শেষ হতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় প্রয়োজন।
নগরবাসীর দাবি, সাময়িক সংস্কারের বদলে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বর্ষায় খুলনাকে একই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে হবে।