বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আষাঢ়ের টানা বর্ষণে খুলনার পাইকগাছায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু ও কাঁচা সড়ক তলিয়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
আষাঢ়ের শেষ প্রান্তে এসে টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে উপকূলীয় এ জনপদে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও মৎস্যজীবীরা কয়েকদিন ধরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। রাস্তায় যাত্রী ও মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এবং শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ থাকায় তাদের পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। টানা বর্ষণে রাস্তাঘাট জলমগ্ন থাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে চিরচেনা ব্যস্ত সড়কগুলোতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও কাঁচাবাজারেও ক্রেতাদের সমাগম নেই বললেই চলে। কেনাবেচা কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
যদিও আমন মৌসুমের জন্য বৃষ্টির পানি উপকারী, তবে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমনের বীজতলা এবং মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
টানা বৃষ্টিতে বাইরে বের হওয়া মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে। ছাতা নিয়েও ভিজে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। উপকূলের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকার অনেক বাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গৃহিণীদের রান্নাবান্নায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দিন এনে দিন খাওয়া নির্মাণ শ্রমিক, রিকশা-ভ্যানচালক, হোটেল কর্মচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা পুরোপুরি নির্ভর করে দৈনিক আয়ের ওপর। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তাদের জীবন-জীবিকা কার্যত থমকে গেছে।
এদিকে, কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনতে সমস্যা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন বলেন, “বর্তমানে মাঠে পাট ছাড়া তেমন কোনো ফসল নেই। যেসব জমিতে মাটিতে থাকা সবজি রয়েছে, সেগুলোর কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে এ বৃষ্টিতে সামগ্রিকভাবে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।”