খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়ি উপজেলায় পৃথক দুই ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত, দুজন আহত এবং এক অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গামতি ইউনিয়নের শান্তিপুর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল মালেক (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার স্ত্রী শাহারা খাতুন (৫০) ও ছেলে শাহ আলম (৩৫) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহারা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
নিহতের ছোট ভাই জালিল মিয়া জানান, বর্ষায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাশের বাড়ির ফজর আলী তাদের বাড়ির বারান্দায় অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতেন। বৃহস্পতিবার রাতে চার্জ শেষ হলে তিনি মাল্টিপ্লাগটি জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে রেখে চলে যান। শুক্রবার দুপুরে মাল্টিপ্লাগটি খুলতে গিয়ে আব্দুল মালেক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তিনজনকে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল মালেককে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আহত শাহারা খাতুন ও শাহ আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ উদ্দিন জানান, শাহারা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, একই দিন মহালছড়ি উপজেলার ২৪ মাইল এলাকা সংলগ্ন একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহালছড়ি যৌথ খামার ও মুড়াপাড়ার মাঝামাঝি, কলেজের বিপরীত দিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে পাহাড়ি এলাকায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহটি প্রায় ৩৫ বছর বয়সী এক মারমা নারীর। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মির্জা জহির আহমেদ জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।