টানা কয়েক দিনের অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে প্রায় তিন মাস পর প্রথমবারের মতো কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট একসঙ্গে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটে ৪২ মেগাওয়াট করে, ৩ নম্বর ইউনিটে ৩৫ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৭৯ মেগাওয়াটে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। পানির সংকটের কারণে পাঁচটি ইউনিট সচল থাকলেও একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয়নি। উৎপাদন সচল রাখতে রেশনিং পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে ইউনিট চালু রাখা হয়। এতে ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম কেন্দ্রটির উৎপাদন একপর্যায়ে ৯৬ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
মাহমুদ হাসান বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হ্রদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ধীরে ধীরে বাড়ানো সম্ভব হবে।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রুল কার্ভ অনুসারে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর থাকার কথা ছিল ৯০ দশমিক ৩১ ফুট (মীন সি লেভেল-এমএসএল)। তবে বর্তমানে পানির স্তর রয়েছে ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট এমএসএল, যা এখনো কাঙ্ক্ষিত স্তরের নিচে। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে কাপ্তাই হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত পানি থাকলে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট একসঙ্গে চালিয়ে সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।