দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব খেলার মাঠ না থাকায় মাঠের বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। একই সঙ্গে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিদ্যালয়গুলোতে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলোকে খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। এ জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে মাঠের অবস্থা, বিকল্প ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে সেখানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, সেসব ক্ষেত্রে আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের লক্ষ্যে সমঝোতা বা চুক্তি করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির, মসজিদ, খালি জায়গা, পতিত জমি কিংবা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার মাঠ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় শিশুদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব বিদ্যালয়ে কোনোভাবেই মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে না, সেখানে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দাবা, ক্যারামসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলার সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী হবে।