রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশজুড়ে তরুণ ও খুদে উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা কৃষি প্রযুক্তি থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান, রোবোটিক্স এবং মহাকাশ গবেষণা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রকল্প উপস্থাপন করছেন।
রবিবার (২৮ জুন) অনুষ্ঠানের প্রদর্শনী ও বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১০১টি দল তাদের বিজ্ঞান প্রকল্প ও স্টার্টআপ ধারণা বিচারকদের সামনে তুলে ধরে। আগামীকাল সোমবার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর একটি সমন্বিত কৃষি-প্রযুক্তি প্রকল্প। তাদের আইডিয়ায় রয়েছে ফার্মিং রোভার, স্বয়ংক্রিয় জলযান এবং ড্রোন—এই তিনটি ইউনিট।
দলের সদস্য অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আমজাদ হোসেন সাদিক জানান, কৃষি ও মৎস্য খাতের বাস্তব সমস্যা সমাধানেই তাদের এই পরিকল্পনা। তাদের প্রস্তাবিত ফার্মিং রোভার জমির অবস্থা বিশ্লেষণ করে রোগ শনাক্ত করবে এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে গাছের আক্রান্ত অংশ চিহ্নিত করে প্রতিকার দেওয়ার কথাও রয়েছে তাদের মডেলে।
শিক্ষকদের মতে, বাজারে থাকা অনেক প্রযুক্তি রোগ দেখা দেওয়ার পর কাজ করলেও তাদের উদ্ভাবন রোগ ছড়ানোর আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধের ওপর জোর দিচ্ছে।
প্রদর্শনীতে আরও দেখা গেছে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প। বরিশালের এক দল উপস্থাপন করেছে এআই-নিয়ন্ত্রিত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ রোবট, ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা এনেছে রকেট প্রকল্প। কুড়িগ্রামের শিক্ষার্থীরা স্মার্ট সিটি ধারণা, কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থীরা বাক্প্রতিবন্ধীদের যোগাযোগে সহায়ক প্রযুক্তি এবং নেত্রকোনার শিক্ষার্থীরা কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম উপস্থাপন করেছে।
আয়োজকরা জানান, প্রথম ধাপে ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৮ হাজারের বেশি দল অংশ নেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত হয়ে ৫৪৬টি দল জেলা পর্যায়ে এবং পরে ১০১টি দল জাতীয় পর্যায়ে আসে।
সোমবার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । সেরা ১০টি দলকে নগদ অর্থ ও সনদপত্র দেওয়া হবে। শিক্ষকেরাও পাবেন পুরস্কার।
একই অনুষ্ঠানে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই আয়োজনের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, উদ্ভাবন ও স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খোঁজার প্রবণতা তৈরি করা।