এইচএসসি পরীক্ষায় কোনও শিক্ষার্থী নকল করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ পরিবর্তন করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পেলে, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত পরীক্ষা আইনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগের আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা নকলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নতুন আইনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলে জড়িত কাউকে কোনও ধরনের ছাড় দেয়া হবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এলোমেলোভাবে উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। কোনও পরীক্ষক সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন না করলে বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ২০২৭ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর ভাতা পাননি, তাদের বকেয়া অবসর ভাতা আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে।
দেশে ৬০ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান এবং সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।