রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চলমান সংকটের সমাধান চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২২ জুন) সকালে একদল বিদেশি শিক্ষার্থী তাদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার বিষয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ পাননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে দেশের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি।
পরে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরেও যান, তবে সেখান থেকেও কোনো কার্যকর সাড়া পাননি বলে তারা জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ১০ দিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলেও তারা জানান।
ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী ডা. রেজা বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চাইলে অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশনের সুযোগ পায়, কিন্তু বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। আমাদের একই প্রতিষ্ঠান থেকেই কোর্স ও ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হয়।
তিনি আরও জানান, তিনি প্রায় আট বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন এবং শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি চলতে থাকলে তার ডিগ্রির ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
অন্য এক শিক্ষার্থী খুজাইমা বলেন, আমরা দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু কোথাও থেকে কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসেছি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে এসে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়ন করছেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে ইন্টার্ন ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় ২৯৫ জন বিদেশি রয়েছেন।
এদিকে ভারতের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এফএমজিএল প্রবিধানমালা, ২০২১) বিধান অনুযায়ী একই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য হয় না—এমন শর্তের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক বাধ্যবাধকতা পূরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কিছু একাডেমিক ক্লাস ও থিওরিটিক্যাল শিক্ষা চলমান রয়েছে। তবে বাস্তব প্রশিক্ষণ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল দক্ষতা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।
সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও পেশাগত স্বীকৃতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।