চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানিহাট বাজারের উত্তর পাশের প্রধান সড়কটি এখন যেন একটি উন্মুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের ফেলা ময়লায় সড়কটির পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কোটি টাকার এই বাজারের এমন বেহাল দশা ও অবহেলায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবং পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেরানিহাট বাজারের উত্তর পাশের প্রধান রাস্তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন গাড়ি গাড়ি ময়লা ও বর্জ্য ফেলছেন। এই রাস্তাটি শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, বরং এর পাশেই অবস্থিত মাদ্রাসা, স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ। বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী গরুর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলার মতো কোনো পরিবেশ নেই। দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও প্রশাসন বা বাজার কমিটি-কারও যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। ময়লা ফেলার এই অভ্যাসের পেছনে কোনো রহস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের বর্জ্য অপসারণের কোনো সুব্যবস্থা নেই। আমরা যারা নিয়মিত এই রাস্তা ব্যবহার করি, তারা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে আছি। ব্যবসায়ীদের সচেতনতার অভাব এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই বাজারের প্রাণকেন্দ্রের এই রাস্তাটি আজ ময়লার পাহাড়ে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে কেরানিহাট বাজার কমিটির দায়িত্বশীল কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের এই বাজারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক কোনো উদ্যোগ না থাকা এবং মনিটরিংয়ের অভাবই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এই বর্জ্য অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত না করে, তবে আগামীতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় বাজার কমিটির সাথে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।