দেশে হামের ভয়াবহতা এখনো কাটেনি বরং প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গতকাল শনিবার নতুন করে আরও ছয় শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৮ জনে। একই সময়ে দেশে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষায় ১১ হাজার ৫৯৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অনেক শিশুর টিকা বাদ পড়ে যাওয়া, চিকিৎসা নিতে দেরি এবং অপুষ্টির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এর মধ্যেই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। তবে টিকা না নেওয়া বড় শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে এখনো হামে আক্রান্ত শিশুদের চাপ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামকে অনেকেই সাধারণ জ্বর বা ভাইরাসজনিত রোগ ভেবে অবহেলা করেন। ফলে রোগ জটিল হওয়ার পর হাসপাতালে আসেন। এতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের জটিলতা দেখা দিয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ করাও জরুরি।
এদিকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে রোগের গুরুত্ব বুঝতে না পারায় কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। কেউ কেউ আবার হাসপাতালে শয্যা সংকট ও চিকিৎসার চাপের কথাও জানিয়েছেন। সন্তান হারানো কয়েকটি পরিবার সরকারের কাছে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
এদিকে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসতেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে সামনে এসেছে ডেঙ্গু। বর্ষার বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীও বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের চাপ একসঙ্গে বাড়লে হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তাদের মতে, এখনই দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাম শনাক্তে নজরদারি বৃদ্ধি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশকনিধন অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। অন্যথায় সামনের সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আহ্বান, শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিশু এখনো হামের টিকার আওতায় আসেনি, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।