দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের জীবাণু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাকেও জটিল করে তুলতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থার অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
এর ফলে চিকিৎসার প্রক্রিয়া যেমন জটিল হয়ে পড়ছে, তেমনি পরিবেশে এই প্রতিরোধী জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এটি এখন দেশের অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির আওতায় মানব, প্রাণী এবং পরিবেশ খাতে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন ও সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে খুব দ্রুত জীবাণু শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এর পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং দক্ষ ল্যাবরেটরি জনবল তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছা ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে এই জীবাণুর বিস্তার পর্যবেক্ষণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। সরকারের এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।