চলে গেলেন তামিল চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কে. ভাগ্যরাজ

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

তামিল চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার কে. ভাগ্যরাজ আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার (২৭ জুন) সকালে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো

2026-06-27T20:13:15+00:00
2026-06-27T20:13:15+00:00
  শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
বিনোদন
চলে গেলেন তামিল চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কে. ভাগ্যরাজ
বিনোদন ডেস্ক
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
তামিল চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার কে. ভাগ্যরাজ আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার (২৭ জুন) সকালে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার প্রয়াণে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কে. ভাগ্যরাজের পুরো নাম ছিল কৃষ্ণস্বামী ভাগ্যরাজ। তামিলনাড়ুর ইরোড জেলায় জন্ম নেওয়া এই গুণী নির্মাতা চলচ্চিত্রজগতে নিজের যাত্রা শুরু করেন প্রখ্যাত পরিচালক ভারতীরাজার সহকারী হিসেবে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তার চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি আগ্রহ ও দক্ষতা গড়ে ওঠে।

১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭৭ সালে ‘১৬ ভায়াথিনিলে’ এবং ১৯৭৮ সালে ‘সিগাপ্পু রোজাক্কাল’ ছবিতে তার উপস্থিতি দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে ১৯৭৯ সালে ‘সুভারিল্লাধা চিত্রাঙ্গল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই সময়ে ‘পুধিয়া ভার্পুগাল’ ছবিতে তিনি প্রথমবার নায়ক চরিত্রেও অভিনয় করেন।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে কে. ভাগ্যরাজ তামিল সিনেমায় নতুন ধারার সূচনা করেন। মধ্যবিত্ত জীবনের বাস্তবধর্মী গল্প, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং মানবিক আবেগের উপস্থাপনার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার নির্মিত পারিবারিক নাটকগুলো দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে এবং তামিল চলচ্চিত্রে গল্প বলার নতুন ধারা তৈরি করে।

তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আন্ধা ৭ নাটকাল’ (১৯৮১), ‘ইন্দ্রু পোই নালাই ভা’ (১৯৮১), ‘থুরাল নিন্নু পোচু’ (১৯৮২) এবং ‘মুন্ধানাই মুদিচু’ (১৯৮৩)। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ২৫টিরও বেশি চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং ৭৫টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

কে. ভাগ্যরাজ শুধু তামিল সিনেমায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বলিউডেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। ১৯৮৬ সালে তিনি অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘আখরি রাস্তা’ পরিচালনা করেন, যা শক্তিশালী গল্প ও তারকা সমাবেশের জন্য আলোচিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অভিনেত্রী পূর্ণিমা ভাগ্যরাজের স্বামী। তাদের ছেলে শান্তনু ভাগ্যরাজ এবং মেয়ে সারন্যা ভাগ্যরাজও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

কে. ভাগ্যরাজের মৃত্যুতে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে এক যুগের অবসান ঘটল। তার গল্প বলার ধরন, নির্মাণশৈলী এবং বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র আগামী প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: