পাকিস্তানের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি লোকসংগীতশিল্পী তারিক তাফু আর নেই। ‘লাহোর লাহোর আয়ে’ গানের মাধ্যমে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই শিল্পী গত সোমবার (২৩ জুন) লাহোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তার প্রয়াণে পাকিস্তানের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডেইলি পাকিস্তানসহ একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারিক তাফুকে লাহোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমে তিনি তীব্র পেটব্যথায় ভুগছিলেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগীত ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া তারিক তাফু ছিলেন কিংবদন্তি তবলাবাদক উস্তাদ তাফুর ছেলে। এছাড়া তিনি প্রখ্যাত গজলশিল্পী উস্তাদ গুলাম আলীর জামাতাও ছিলেন। পারিবারিক সংগীতধারার উত্তরসূরি হিসেবে পাঞ্জাবি লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
২০০৪ সালে প্রকাশিত তার গাওয়া ‘লাহোর লাহোর আয়ে’ গানটি পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু একটি জনপ্রিয় গানই নয়, বরং পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অংশ হয়ে ওঠে। প্রাণবন্ত পরিবেশনা ও লোকজ সুরের কারণে এই গানের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান তারিক তাফু।
মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে বাবা দিবস উপলক্ষে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন এই শিল্পী। সেখানে প্রয়াত বাবা ও দাদাকে স্মরণ করে তিনি লিখেছিলেন, ‘তোমাদের ছাড়া জীবন কিছুই নয়।’ পোস্টটির সঙ্গে পরিবারের তিন প্রজন্মের কয়েকটি পুরোনো ছবিও শেয়ার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
লোকসংগীতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তাকে ‘প্রাইড অব পাকিস্তান’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন শিল্পী, সহকর্মী ও ভক্তরা।
ব্যক্তিগত জীবনে তারিক তাফু স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে রেখে গেছেন। লাহোরের ইকবাল টাউন এলাকার শাহেনশাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।
তার মৃত্যুতে পাকিস্তানের সংগীতাঙ্গন হারাল এক জনপ্রিয় কণ্ঠকে, যার গান বহু বছর ধরে শ্রোতাদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।