মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে একধাপ এগিয়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা

চাঁদপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মধ্যে মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম প্রকৃত ক্যাবল স্টেইড (ঝুলন্ত) সেতু হিসেবে

2026-06-24T19:37:06+00:00
2026-06-24T19:37:06+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
সারাদেশ
মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে একধাপ এগিয়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা
চাঁদপুর সংবাদদাতা
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম 
মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মতলব-গজারিয়া ক্যাবল স্টেইড সেতুর নকশা; ইনসেটে সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারউদ্দৌলা চৌধুরী ভুলু।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মধ্যে মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম প্রকৃত ক্যাবল স্টেইড (ঝুলন্ত) সেতু হিসেবে নির্মাণাধীন মতলব-গজারিয়া সেতু প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ ১২ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ।

সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারউদ্দৌলা চৌধুরী ভুলু জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে স্বল্পসুদে অর্থায়নের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ ছাড় হওয়ার পরপরই দরপত্র আহ্বান করে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

শনিবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শরীফ উল্লাহ্ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

যুগ্ম সচিব বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে জমি অধিগ্রহণের নজির খুবই কম। তিনটি পৃথক টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে এবং জেলা প্রশাসন দ্রুত মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য ১২ কোটি টাকা অনুমোদন হয়ে আইবাস সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা দ্রুত তাদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত কম সুদে অর্থায়ন করা হচ্ছে, যা দেশের সেতু নির্মাণ ইতিহাসে বিরল। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পে বিদেশি পণ্য ব্যবহারের শর্ত ৬৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে রড, সিমেন্ট, বালুসহ অধিকাংশ নির্মাণসামগ্রী এবং শ্রমশক্তি দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে।

ভিখারউদ্দৌলা চৌধুরী ভুলু জানান, মতলব-গজারিয়া সেতুর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. মো. জালাল উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আটকে থাকা একটি জটিলতা তার উদ্যোগে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলাকে সংযুক্ত করতে মেঘনা নদীর ওপর ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণ করা হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা বজায় রাখতে সেতুতে ২৫ মিটার উচ্চতার ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সেতুর উভয় প্রান্তে ছয় লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে চার লেন হবে মূল সড়ক এবং দুই পাশে থাকবে সার্ভিস লেন। পাশাপাশি প্রায় আড়াই কিলোমিটার নদী শাসন কাজও বাস্তবায়ন করা হবে, যা নদীভাঙন রোধ এবং সেতুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।

এছাড়া সেতু নির্মাণের পর মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ প্রশস্ত করে উন্নতমানের চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সড়ক চাঁদপুর হয়ে ফেনী ও চট্টগ্রামের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করবে এবং জাতীয় মহাসড়ক এন-১-এর কার্যকর বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মতলব-গজারিয়া সেতু বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে মেঘনা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই মেগা প্রকল্প।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: