খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও দীঘিনালা উপজেলায় পৃথক দুই ঘটনায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপ) এর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সংঘটিত এসব ঘটনায় একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে এবং অপরজন দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার তৈকাথান এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় ইউপিডিএফ সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ববিন ত্রিপুরা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সুনিল ত্রিপুরা নামে আরও এক ইউপিডিএফ সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি মংসানু মারমা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন বলেন, অভিযান চলাকালে ইউপিডিএফ সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। এতে একজন নিহত হন এবং একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
নিহত ববিন ত্রিপুরা রামগড় উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আহত সুনিল ত্রিপুরা রামগড়ের দাতারাম পাড়ার কমল বিকাশ ত্রিপুরার ছেলে।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ১টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকার দুর্গম মুড়োপাড়ায় জেএসএস ও ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সুজন চাকমা নামে ইউপিডিএফের এক কর্মী নিহত হন।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, দুই সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তবে ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ্য মারমা গোলাগুলির দাবি প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিযোগ করেছেন।
ঘটনা দুটির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।