খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার বহুল প্রত্যাশিত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘ ৬ বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে রেখে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৯ হাজার ৫৮৭ টাকা ব্যয়ে নতুন পৌর ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স। ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। পরে আরও পাঁচ মাস সময় বাড়ানো হলেও ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে কার্যত নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আহমদ জানান, ভবনের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখনও একটি তলার নির্মাণ, প্লাস্টার, কক্ষের অভ্যন্তরীণ কাজ, গ্রিল, থাই গ্লাস, টাইলস, সেফটি ট্যাংক, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত পাইকগাছা পৌরসভা বর্তমানে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখনো নিজস্ব আধুনিক ভবন পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে পৌরসভার কার্যক্রম।
পৌরসভার প্রধান সহকারী শেখ জিয়াউর রহমান বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পুরোনো ভবনে সীমিত জায়গায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতে হচ্ছে, যা সেবাদান কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
পৌর কর্মচারীরা জানান, সংকীর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন শাখার কাজ একসঙ্গে পরিচালনা করতে গিয়ে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কম্পিউটার অপারেটর হযরত আলী বলেন, প্রয়োজনীয় কর্মপরিবেশের অভাবে নিয়মিত কাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার বলেন, সাধারণ প্রশাসন, হিসাব, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, রাজস্ব আদায়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও কনজারভেন্সি শাখার কার্যক্রম একটি ছোট ভবনে পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সাবেক প্যানেল মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম ইমাদুল হক বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। এমনকি কাউন্সিলরদের বসার জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, ফলে নাগরিকদের সেবা দিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের ব্যয়ের একটি অংশ সরকার এবং বাকি অংশ পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করার কথা থাকলেও পৌরসভার আর্থিক সংকট রয়েছে। তবে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতা দূর করে দ্রুত পৌর ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নতুন ভবন চালু হলে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।