গাইবান্ধায় একটি হোটেলে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা হোটেলটিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী আমির উদ্দিনকে উদ্ধার করে আটক করে।
বুধবার (২৪) দুপুরে সদর উপজেলর খোলাহাটি ইউনিয়নের ভেড়ামারা ব্রিজ-সংলগ্ন (বাধ সংলগ্ন নদীর তীর) অবস্থিত ‘জাফলং রেস্টুরেন্ট’ এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে হোটেলটির বিরুদ্ধে। শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা হোটেলটি ঘেরাও করে এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত আমির উদ্দিন (৪০) সদর উপজেলার দাঁড়িয়াপুর এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি ‘জাফলং রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই ওই হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে আসছিল। বুধবার দুপুরে স্থানীয় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই হোটেলটির এক কর্মচারী। বিষয়টি জানতে পেরে শতাধিক স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা ওই হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ছয়-সাত বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হোটেলটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় আমির উদ্দিন নামের এক কর্মচারীকে পুলিশ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলোও ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার (এসও) রিফাত আল মামুন বলেন, স্থানীয় লোকজন খবর দিলে আমরা তাৎক্ষণিক রওনা হই। কিন্তু উত্তেজিত জনতার বাধায় আমরা পৌঁছাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।