চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে মো. আলম (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে, গত মঙ্গলবার একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার (২৪ জুন) সকালে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মো. আলম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ি এলাকার মৃত পেঠানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, আলমকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি চক্র মিথ্যা মামলায় ডিবি পুলিশের মাধ্যমে আলমকে গ্রেপ্তার করায়। পরে তাকে সাতকানিয়া থানায় রাখা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে হঠাৎ পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর সংবাদ পান।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। তার কোনো গুরুতর রোগ ছিল না। মাত্র এক রাতের ব্যবধানে কারাগারে তার মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। তাকে থানায় বা হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে দেয়। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারের ভেতরে কী ঘটেছে বা তার কোনো পূর্ববর্তী অসুস্থতা ছিল কি না, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আজ সকালে ওই বন্দী হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারাগারে কোনো বন্দীকে নির্যাতনের প্রশ্নই আসে না।
কারা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।