দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে এনে ‘এক ছাতার নিচে’ পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজনই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ। বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
সভায় মন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান বিশেষ ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ এবং কিছু ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের নিয়োগও পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি এখতিয়ার না থাকায় এ ব্যবস্থাকে তিনি ‘এক দেশের ভেতরে আরেক দেশ’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় যদি আমি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারি, তাহলেই সবাই একত্রিত হবো। কিছু মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে অনেক ভালো উদ্যোগও ব্যাহত হয়। তাই সবাইকে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রসংক্রান্ত জটিলতা কমাতে সরকার প্রতি চারটি ইউনিয়নের জন্য একটি পৃথক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের খাতা র্যান্ডমলি যাচাই করা হবে।
প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে এটি শিক্ষাব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে তিনি নিজে প্রেসে গিয়ে নিরাপত্তা তদারকি করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়তে আগামী প্রজন্মকে শুধু শিক্ষিত নয়, বরং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত প্রাথমিক স্তর থেকেই।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার হার বাড়লেও মান না বাড়ায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার ফলে কিশোর গ্যাং, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।