বগুড়ার শেরপুরে প্রকাশ্যে মহাবিপন্ন বাঘাইড় মাছের বাচ্চা কেনাবেচা চলছে। বাঘাইড় মাছ শিকার ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
একসময় দেশের নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় ও জলাশয়ে সহজলভ্য ছিল মিঠাপানির এই মাছ। জেলেদের জালে প্রায়ই ধরা পড়ত বাঘাইড়, যা সাধারণ মানুষের কাছেও ছিল পরিচিত ও জনপ্রিয়। তবে অপরিকল্পিত ও নির্বিচার আহরণ, নদ-নদী ভরাট এবং পরিবেশগত নানা কারণে মাছটি বর্তমানে বিপন্ন ও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী বাঘাইড় মাছকে সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এ মাছ ধরা, হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বিচার নিধনের ফলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে বাঘাইড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) মাছটিকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশে এর অস্তিত্ব রক্ষার লক্ষ্যে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর তফসিল-২-এ মাছটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী বাঘাইড় মাছ ধরা, হত্যা, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা আমদানি-রপ্তানি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
শেরপুরের হাটখোলা বাজারের মাছ বিক্রেতা বাবু বলেন, আগে কখনো শুনিনি যে বাঘাইড় মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়েনি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারেও এ মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে বাঘাইড় মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ করতে হলে আড়তদার, মৎস্যজীবী ও জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ না নিলে জেলেরা নদী ও হাওরে মাছ ধরতেই থাকবেন। সব জায়গায় তো সরকারি নজরদারি সম্ভব নয়। বাজারে না আনলেও তারা গ্রামাঞ্চলের হাটে কিংবা বাড়িতে পৌঁছে মাছ বিক্রি করবেন। এমনিতেই কারেন্ট জাল ও চায়না জালের কারণে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো বাঘাইড় মাছ শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখবে। বগুড়া অঞ্চলের বাঙালি, ইছামতি ও যমুনা নদীতে এখনও অল্পসংখ্যক বাঘাইড় টিকে আছে। তাই মাছটির সংরক্ষণে প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।