অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু তাহের মাস্টার লটকন চাষে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার ১০ নং ফতেপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু তাহের মাস্টার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করেছেন। দীর্ঘদিনের পরিচর্যা, শ্রম ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে চলতি মৌসুমে তার বাগানের গাছে প্রচুর পরিমাণে লটকন ধরেছে। গাছভর্তি পাকা ও আধাপাকা লটকনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানে আসছেন।
আবু তাহের মাস্টার জানান, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় লটকন চাষে খরচ কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে বাজারে লটকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে বাগান থেকেই ব্যবসায়ীরা লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, এ বছর লটকন বিক্রি করে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, লটকন একটি লাভজনক ফল। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে এ ফলের চাষ করে কৃষকরা স্বাবলম্বী হতে পারেন। আবু তাহের মাস্টারের সফলতা দেখে অনেকেই এখন লটকন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লটকনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ফলের বাজার চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। তাই পতিত বা অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে লটকন চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আবু তাহের মাস্টারের মতো সফল উদ্যোক্তাদের দেখে আরও অনেক কৃষক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। তার এই সফলতা প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কৃষির মাধ্যমেও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।