নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা মো. সফিক (৩৮)-এর বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই গ্রামের মো. খলিল ড্রাইভারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একই এলাকার সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার স্বামী গত দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও বেতন পাননি। বেতন চাইতে গেলে তাকে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে শনিবার সকালে ঘটনাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সকালে বাড়ির পাশের নদীতে থাকা একটি রিং জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় উত্তেজনা বাড়লে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বেলা ১১টার দিকে পুনরায় এসে তার স্বামীকে মারধর করা হয় এবং বাধা দিতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার প্রজেক্ট এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে—এমন কথাও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সফিক বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। তার দাবি, কয়েক দিন আগে তার বোনের বাড়িতে দরজা খোলার চেষ্টা ও মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। শনিবার সকালে তারা তাকে আক্রমণ করলে তিনি আহত হন বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।