চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার বিঘা জমির ধান সময়মতো ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে আগাম ঢল ও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা নাবি জাতের ধান। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিবছরই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এলাকার হাজারো কৃষক।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কুন্দইল উত্তর মাঠের মাকরশন–লালুয়ামাঝিড়া সড়কের মোস্তফার পুকুরের পশ্চিম পাশের খালের ওপর একটি সেতু না থাকায় হারভেস্টার, ভ্যান ও ধান পরিবহনকারী যানবাহন মাঠে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে প্রতি বছর বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে বাধ্য হন কৃষকরা। এতে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
কুন্দইল গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান ও আশরাফুল হক বলেন, সরিষা কাটার পর ধান চাষ করায় ফসল পরিপক্ব হতে কিছুটা দেরি হয়। এরই মধ্যে চলনবিলে ঢলের পানি চলে আসে। খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ হলে হারভেস্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্র মাঠে প্রবেশ করতে পারত এবং দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হতো। কিন্তু সেতুর অভাবে প্রতিবছর পানিতে নেমে ধান কাটার পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, সেতুর অভাবে কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা জানান, এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।