যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল্যবান গাছ টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং প্রধান অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে থাকা লক্ষাধিক টাকা মূল্যের কয়েকটি পুরোনো ও মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তবে সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের যে বিধান রয়েছে, তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, মূল্য নির্ধারণ এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রির বিধান রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। তাদের ভাষ্য, সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলমগীর এবং প্রধান অফিস সহকারী পঙ্কজের যোগসাজশে গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) পঙ্কজ বলেন, ‘গাছ কেটে বিক্রির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ এ বিষয়ে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর বলেন, গাছ সব ভোগতি এলাকার কিছু মানুষের চুলার মধ্যে।
বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ বলেন, আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। আমার যোগদানের আগেই এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে পূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কথা শুনেছি। যোগদানের পর থেকে এসব অনিয়ম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে কেশবপুরে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।