৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেন ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি এবং মেট্রো রেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এ কাঠামোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের সিগনেচার প্রোগ্রাম ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় পরিবারের প্রধান নারী সদস্য মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ খাতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। ইতোমধ্যে এর পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে।
এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখ করা এবং মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতার আওতাও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। নতুনভাবে এ সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করে স্তরভেদে মাসিক ভাতা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।