দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাধীন পুরানগড় ইউনিয়নের বৈতরণী ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে হেলে পড়ে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজারো মানুষ ও শতাধিক যানবাহন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে নতুন সেতু নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে পাশাপাশি থাকা দুটি সেতু সাঙ্গু নদীর দিকে হেলে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে স্থানীয়রা ভাঙা ইটের টুকরো আর বাঁশ-কাঠ দিয়ে কোনোমতে সেতুর একপাশে ঢালাই করে ছোট যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বাজালিয়া-পুরানগড়-শীলঘাটা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই শতাধিক যানবাহন এবং কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কৃষকরা এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।তবে সেতুটি হেলে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফলে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ও কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে ট্রাকে করে সহজে কৃষিপণ্য বাজারে পাঠানো যেত। এখন ছোট যানবাহনে পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে, লাভ কমে গেছে।
স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ মিসকাত বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কৃষকরা পণ্য পরিবহন করে। হেলে পড়া সেতু পার হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের।যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।সেতুর ওপর উঠলেই আমাদের ভয় লাগে। অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে সেতু পার হতে হয় গাড়ী চালকদের। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন,নতুন সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকসহ দুটি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।এদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।