খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা

খুলনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণকাজ। একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্রায় পাঁচ বছরেও প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়নি। ফলে আধুনিক

2026-06-10T20:15:54+00:00
2026-06-10T20:15:54+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
সারাদেশ
খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা
খুলনা প্রতিনিধি
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম 
ছবি ভোরের ডাক
দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণকাজ। একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্রায় পাঁচ বছরেও প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়নি। ফলে আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসাসেবা থেকে এখনও বঞ্চিত রয়েছেন খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা।

জানা যায়, ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের পেছনে প্রায় ২৩ হাজার ২৫০ বর্গমিটার জমির ওপর পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় দুটি বেজমেন্ট ও ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় একাধিক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও এবার আরও এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ২৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে মূল ভবনের অবকাঠামোগত কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। তবে ২২টি প্যাকেজের আওতায় সামগ্রিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩ শতাংশ।

প্রকল্পটি চালু হলে মোট ৪৫০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে উঠবে। এর মধ্যে ১৮২টি শয্যা ক্যানসার রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং বাকি শয্যাগুলো হৃদরোগ ও কিডনি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতালটি দ্রুত চালু হলে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বা দেশের বাইরে যেতে হতো না। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের রোগীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দিঘলিয়ার বাসিন্দা দিলীপ সরকার বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য অনেককেই ভারত বা ঢাকায় যেতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। খুলনায় হাসপাতালটি চালু হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

একই ধরনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সেবাপ্রত্যাশী প্রকৌশলী করিম শেখ ও শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম। তাদের মতে, হাসপাতালটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু হলে রোগীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—সবই কমে আসবে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুম হাওলাদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। ক্যানসার হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করে চালু করা গেলে খুলনার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষের দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে নির্মাণকাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার আশা করছেন তারা। তিনি আরও বলেন, ২২টি পৃথক প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে এবং সব কাজ সম্পন্ন হলে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দাবি—খুলনার বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে চালু করা হোক।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: